দৈনন্দিন মাসনূন দুআ ও যিকর

 

দৈনন্দিন মাসনূন দুআ ও যিকর


ঘুম থেকে উঠার পর পঠিতব্য যিকর

যিকর নং ১ (১ বার)


الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ.

উচ্চারণ: আল ‘হামদু-লিল্লা-হিল্লাযী  আ‘হইয়া-না- বা'দা মা- আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে জীবিত করেছেন মৃত্যুর (ঘুমের) পরে, আর তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"

সাহাবি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান ও আবু যার বলেন রাসূলুল্লাহ ঘুম থেকে উঠে উপরের যিকর বলতেন।

বুখারি, খালকু আফআলিল ইবাদ ১/৭২, নং-২৮১; সহীহ ইবন হিব্বান হাদীস-৮১৮।


ফরয সালাতের পরে পঠিতব্য মাসনূন যিকর-মুনাজাত

যিকর নং ২ (৩ বার)


أَسْتَغْفِرُ اللهَ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হ। অর্থ: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।


যিকর নং ৩ (১ বার)


                                                                                                        اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ

                                                                                                                                                        وَالْإِكْرَامِ.

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতাস সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু, তাবা-রাকতা ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনিই সালাম (শান্তি), আপনার থেকেই শান্তি, হে মহাসম্মানের অধিকারী ও মর্যাদা প্রদানের অধিকারী, আপনি বরকতময়।"

সাওবান বলেন, রাসূলুল্লাহ সালাত শেষে ৩ বার ইস্তিগফার বলার "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম..." বলতেন।

৫. সহীহ বুখারি, হাদীস-৬৩১২, ৬৩২৫: সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৭১১।


যিকর নং ৪ (আয়াতুল কুরসি ১ বার)


‎‫اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَومِ لَا دَاخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا                                                                                          

  ‬‫فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا‬‎

‎‫بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا مَعَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ

 مِنْ عِلْمِهِ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَاءِ وَسِيْسِيْهِ إِلَّا بِمَعُ شَيْر السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا 

يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ.‬‎


আবু উমামাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:


‎‫مَنْ قَرَأَ أَيَةَ الْكُرْسِيَ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا الْمَوْتُ‬‎

‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।"৭


যিকর নং ৫

(সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ১বার)


উকবা ইবন আমির বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রত্যেক সালাতের পরে সূরা ফালাক ও নাস (অন্য বর্ণনায়: মুআওয়িযাত (সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পাঠ করতে। হাদীসটি হাসান।

৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস-৫৯১; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩০০।

৭. হাদীসটি হাসান। নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা, হাদীস-৯৮৪৮।

৮ সুনান তিরমিযি, হাদীস-২৯০৩; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৫২৩।


যিকর নং ৬ (১ বার)

‎‫رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ (تَجْمَعُ) عِبَادَكَ.‬‎

উচ্চারণ: রাব্বি ক্বিনী 'আযা-বাকা ইয়াওমা তাব'আসু ইবা-দাকা।

অর্থ: "হে আমার প্রভু, আমাকে রক্ষা করুন আপনার শাস্তি থেকে যেদিন আপনি পুনরুত্থিত করবেন আপনার বান্দাগণকে।"

বারা' ইবন আযিব বলেন, "আমরা যখন রাসূলুল্লাহ এর পেছনে সালাত পড়তাম তখন তাঁর ডানদিকে দাঁড়াতে পছন্দ করতাম। তিনি সালাত শেষে আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন। আমি শুনলাম তিনি সালাত শেষে উক্ত দুআটি বললেন।"৯

যিক্র নং ৭ (১ বার)

‎‫اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القبر.‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আ'উযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি, ওয়া আ'উযু বিকা মিন 'আযা-বিল ক্বাবরি।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রর্থনা করছি কুফরি থেকে ও দারিদ্র্য থেকে এবং আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।"

আবু বাকরাহ ﷺ এ এর ছেলে বলেন, আমার পিতা সালাতের পরে এই দুআটি পাঠ করতেন এবং তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ দুআটি সালাতের পরে পাঠ করতেন, কাজেই তুমি এ দুআটি নিয়মিত পড়বে। হাদীসটি সহীহ।১০

৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস-৭০৯; সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস- ১৫৬৩।

যিকর নং ৮০ (১ বার)

‎‫اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَمُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুয়া, আ'ইন্নী 'আলা- যিকরিকা ওয়া  শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিকা।

অর্থ: "হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার যিকর করতে, শুকর করতে এবং আপনার ইবাদত সুন্দরভাবে করতে তাওফীক ও ক্ষমতা প্রদান করুন।"

দুআয বলেন, রাসূলুল্লাহ আমার হাত ধরে বলেন, "মুআয, আমি তোমাকে ভালোবাসি।... মুআয, আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি, প্রত্যেক সালাতের পরে এ দুআটি বলা কখনো বাদ দেবে না।" হাদীসটি সহীহ। ১১

যিকর নং ৯ (১ বার)

‎‫‬‎


উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আ'উযু বিকা মিনাল বুখলি ওয়া আ‘উযু বিকা মিনাল জুবনি ওয়া আ'উযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা- আরযালিল উমুরি ওয়া আ'উযু বিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া- ওয়া আ'উযু বিকা মিন 'আযা-বিল ক্বাবরি।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপমানকর অতিবৃদ্ধ বয়সে পৌঁছানো থেকে, (যে বয়সে মানুষ কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে), আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিতনা থেকে, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।"

সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস বলেন:

‎‫إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَتَعَوَّذُ بِهِنَّ بَعْدَ كُلِّ صَلَاةٍ (دُبُرَ الصَّلَاةِ)‬‎

"রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক সালাতের পরে এ বাক্যগুলো বলতেন। "১২

১০. সুনান নাসায়ি, হাদীস-১৩৪৭; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২০৩৮১; সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস-৭৪৭: মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-৯৯।

১১. সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৫২২; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-১০১০।

যিকর নং ১০ (১ বার)

‎‫اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسَعْ لِي فِي دَارِي وَبَارِكْ لِي فِي‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, আস্লি'হলী দ্বীনী, (ইগফির লী যামবী) ওয়া ওয়াসিস'য় লী ফী দা-রী ওয়া বা-রিক্ লী ফী রিযকী।

অর্থ: "হে আল্লাহ, আপনি আমার ধর্মজীবনকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে দিন, (আমার পাপ ক্ষমা করুন) আমার বাড়িকে প্রশস্ত করে দিন এবং আমার রিযিকে বরকত দান করুন।"

আবু মূসা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে ওযুর পানি এনে দিলাম। তখন তিনি ওযু করেন, সালাত আদায় করেন এবং তিনি এ দুআ পাঠ করেন। হাইসামি হাদীসটির সনদ সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন। ১৩

১২. সহীহ বুখারি, হাদীস-৬৩৭৪; সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস-৭৪৬, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-২০২৪: সুনান নাসায়ি, হাদীস-৫৪৪৭।

সকাল-সন্ধ্যায় পঠিতব্য মাসনূন যিকর

যিকর নং ১১ (ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর ৭ বার)

‎‫اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ.‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, আজিরনী মিনান না-র।

অর্থ: "হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।"

হারিস ইবন মুসলিম বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে বলেছেন, তুমি ফজরের সালাতের পরেই (দুনিয়াবি) কথা বলার আগে এ দুআ ৭ বার বলবে। যদি তুমি ওই দিনে মৃত্যুবরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। অনুরূপভাবে, মাগরিবের সালাতের পরে কথা বলার আগেই এ দুআ ৭ বার বলবে। তুমি যদি ওই রাতে মৃত্যুবরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। "১৪

 ১৩. মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা, হাদীস-২৯৩৯১।

যিকর নং ১২ (সাইয়িদুল ইস্তিগফার ১ বার)


‎‫اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْطِكَ وَوَعْدِكَ مَاْتُ اسْتْ اسْتُعْتُ وَوَعْدِكَ مَا اسْت بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ الْاِنَّهُ لَاْلَا أَنْتَ‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, আনতা রাব্বী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা, খালাক্বতানী, ওয়া আনা 'আবদুকা, ওয়া আনা 'আলা- 'আহদিকা ওয়া ওয়া'দিকা মাস তাতা'অতু। আ'উযু বিকা মিন শাররি মা- স্বানা'তু, আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা 'আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ (লাকা) বিযামবি। ফাগফিরলী, ফাইন্নাহু লা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা- আনতা।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো মা'বুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞার উপরে রয়েছি যতটুকু পেরেছি। আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমি যে কর্ম করেছি তার অকল্যাণ থেকে। আমি আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করছি আপনি আমাকে যত নিয়ামত দান করেছেন তা-সহ এবং আমি আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করছি আমার পাপ-সহ। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, কারণ আপনি ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না।"

শাদ্দাদ ইবন আওস বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “এটি সাইয়িদুল ইস্তিগফার বা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার।... যে ব্যক্তি এ দুআর অর্থের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রেখে দিনের বেলায় তা পাঠ করবে সে যদি সেদিন সন্ধ্যার আগে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জান্নাতি। আর যে ব্যক্তি এ দুআর অর্থে সুদৃঢ় একীন ও বিশ্বাস রেখে রাত্রে (সন্ধ্যায়) তা পাঠ করবে, সে যদি সে রাতেই সকালের আগে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জান্নাতি। "১৫

১৪. সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৫০৭৯; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-২০২২।

যিকর নং ১৩ (সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার)

‎‫سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ.‬‎

উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী।

অর্থ: "আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা (প্রশংসাময় পবিত্রতা) ঘোষণা করছি।"

আবু হুরাইরা এ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ বলেন, "যদি কেউ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী বলে, তবে তার চেয়ে বেশি না বলে কেউ তার চেয়ে বেশি আমল নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হতে পারবে না।" অন্য বর্ণনায়: "সে ব্যক্তির গুনাহ যদি সমুদ্রের ফেনার চেয়েও বেশি হয়, তাহলেও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। "১৬

১৫. সহীহ বুখারি, হাদীস-৬৩০৬; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৩৯৩; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৫৫২২।

যিকর নং ১৪ (সকালে/ফজরের সালাতের পর ৩ বার)

‎‫سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَى نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ.‬‎


উচ্চারণ: সুব'হা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, 'আদাদা খালক্বিহী, ওয়া রিদ্বা- নাকসিহী, ওয়া যিনাতা 'আরশিহী ওয়া মিদা-দা কালিমাতিহী।

অর্থ: "পবিত্রতা আল্লাহর এবং প্রশংসা তাঁরই, তাঁর সৃষ্টির সমসংখ্যক, তাঁর নিজের সন্তুষ্টি পরিমাণে, তাঁর আরশের ওযন পরিমাণে এবং তাঁর বাক্যের কালির সমপরিমাণ পবিত্রতা ও প্রশংসা।"

উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া এ বলেন, রাসূলুল্লাহ ফজরের সালাতের পরে তাঁকে তাঁর সালাতের স্থানে যিকর রত দেখে বেরিয়ে যান। এরপর তিনি অনেক বেলা হলে দুপুরের আগে ফিরে এসে দেখেন তিনি তখনও ওই অবস্থায় তাসবীহ-তাহলীলে রত রয়েছেন। তিনি বলেন, "তুমি কি আমার যাওয়ার সময় থেকে এ পর্যন্ত এভাবেই যিকর রত রয়েছ?" তিনি বললেন, "হাঁ।" তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, "আমি তোমার কাছ থেকে বেরিয়ে চারটি বাক্য তিনবার করে বলেছি (উপরের বাক্যগুলো)। তুমি সকাল থেকে এ পর্যন্ত যত কিছু বলেছ সবকিছু একত্রে যে সাওয়াব হবে, এ বাক্যগুলোর সাওয়াব সেই একই পরিমাণ হবে। "১৭

 ১৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৬৯২; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-৮২৯; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৫০৯১।

যিকর নং ১৫ (সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার)


‎‫بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي‬‎

‎‫السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ.‬‎

উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদুররু মা'আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা- ফিস সামা-য়ি, ওয়া হুআস সামীউল 'আলীম।

অর্থ: "আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি), যাঁর নামের সাথে যমিনে বা আসমানে কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না।"

উসমান বলেন, "রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যদি কোনো বান্দা সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দুআটি পাঠ করে তবে সেই দিনে ও রাতে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।" হাদীসটি সহীহ।


যিকর নং ১৬ (সকাল-সন্ধ্যায় ৭ বার)

‎‫حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ‬‎

উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লা-হু, লা-ইলাহা ইল্লা-হুওয়া, 'আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুওয়া রাব্বুল 'আরশিল আযীম। (সূরা তাওবা: ১২৯ আয়াত)

অর্থ: “আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো মা'বুদ নেই, আমি তাঁরই উপর নির্ভর করেছি, তিনি মহান। আরশের প্রভু।"


উম্মু দারদা বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ৭ বার এ আয়াতটি পাঠ করবে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও সমস্যা মিটিয়ে দেবেন।" হাদীসটির সনদ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য।"

১৭ সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৭২৬; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস- ৮৩২: সুনান

আবু দাউদ, হাদীস-১৫০৩।

১৮. সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৩৮৮: মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-১৮৯৫; সুনান

আবু দাউদ, হাদীস-৫০৮৮।

যিকর নং ১৭ (সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার)

‎‫رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا وَبِالْقُرْآنِ إماما)।‬‎

উচ্চারণ: রাদীতু বিল্লা-হি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলা-মি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।

অর্থ: "আমি সন্তুষ্ট-পরিতৃপ্ত আল্লাহকে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ কে নবী হিসেবে গ্রহণ করে।"

মুনাইযির বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি সকালে এ বাক্যগুলো বলবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করছি যে, তার হাত ধরে তাকে। জান্নাতে প্রবেশ করাব।" হাফিয হাইসামি হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।২০ অন্য হাদীসে তিনি বলেছেন, "যদি কোনো ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় (বা সকালে ও বিকালে) এ বাক্যগুলো (৩ বার) বলে, তবে আল্লাহর উপর হক্ক (নিশ্চিত) হয়ে যায় যে, তিনি উক্ত ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট ও খুশি করবেন। "২১

১৯. সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৫০৮১।

সার্বক্ষণিক পালনীয় যিকর ও দুআ

যিকর নং ১৮ (তাহলীল বা একত্বের ঘোষণা)

‎‫لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ.‬‎

উচ্চারণ ও অর্থ: ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)।


যিকর নং ১৯ (তাসবীহ বা পবিত্রতার ঘোষণা)

‎‫سُبْحَانَ اللهِ.‬‎

উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হ, অর্থ: “আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।"


যিকর নং ২০ (তাহমীদ বা প্রশংসার ঘোষণা)

‎‫الْحَمْدُ للهِ.‬‎

উচ্চারণ: আল্' হামদু লিল্লাহ। অর্থ: “প্রশংসা আল্লাহর জন্য।”


যিক্র নং ২১ (তাকবীর বা শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা)

‎‫اللَّهُ أَكْبَرُ.

উচ্চারণ: আল্লা-হু আব্বার। অর্থ: "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”

২০. তাবারানি, আল মু'জামুল কাবীর, হাদীস সাত সহীহ লি শাইবি 

২১. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-১৮৯৬৭। হাদীসটি সহীহ লি-গাইরিহি।

উপরের যিকর চারটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাক্য। এগুলোর ফযীলতে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে সামুরা ইবন জুনদুব বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাক্য চারটি: 'সুব'হা-নাল্লাহ', 'আল' হামদুলিল্লাহ', 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লা-হু আকবার'। তুমি ইচ্ছামতো এ বাক্য চারটির যে কোনো বাক্য আগেপিছে বলতে পার। (বাক্যগুলোর সাজানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম বা ফযীলত নেই।) "২২

যিকর নং ২২ ('হাওকালাহ' বা নির্ভরতার ঘোষণা)

‎‫لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ)।‬‎

উচ্চারণ: লা- 'হাওলা ওয়া লা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ (বিল্লাহিল 'আলিয়ি‍্যল 'আযীম)।

অর্থ: "কোনো অবলম্বন নেই, কোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (যিনি সর্বোচ্চ-সুমর্যাদাময়)।"

আবু মুসা, আবু হুরাইরা, আবু যার, মুআয ইবন জাবাল সা'দ ইবন উবাদাহ প্রমুখ সাহাবি থেকে বর্ণিত অনেকগুলো হাদিসে রাসূলুল্লাহ গুপ্ত বলেছেন, তোমরা 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা - বিল্লা-হ' বলবে, কারণ এ বাক্যটি জান্নাতের ভাণ্ডারগুলোর মধ্যে একটি ভাণ্ডার ও জান্নাতের একটি দরজা। ২৩

২২. সহীহ মুসলিম, হাদীস-২১৩৭।

যিকুর নং ২৩ (মাসনূন ইসতিগফার)

‎‫أَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوا‬‎

‎‫إِلَيْهِ‬‎

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লা-হাল 'আযীমাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল 'হাইউল কাইউমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।

অর্থ: "আমি মহান আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো মা'বুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সর্ব সংরক্ষক, এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি।"


ইবন মাসউদ বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেন, যদি কেউ এ কথ ছিলো তিনবার বলে, তবে তার গোনাহসমূহকে ক্ষমা করা হবে, যদি সে জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে আসার মতো কঠিন পাপও করে থাকে।" হাদীসটি সহীহ। ২৪


যিকর নং ২৪ (সদা সর্বদা পালনের বিশেষ দুআ)

‎‫اللَّهُمَّ اغْفِرْ إِن وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাগফিরলী, ওয়ার্'হামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া 'আ-ফিনী, ওয়ারযুকনী।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন।"

আসিম বলেন, কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ তাকে উপরের বাক্যগুলো দিয়ে বেশিবেশি দুআ করতে শেখাতেন।২৫

সহীহ বুখারি হাদীস-৭৩৮৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৭০৪; তাবারানি,

আল মুজামুল কাবীর, হাদীস-৭৫৮।

২৪ . মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-১৮৮৪।

ঘুমাতে যাওয়ার সময় পঠিতব্য যিকর

যিকর নং ২৫ (১ বার)

‎‫باسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا.‬‎

উচ্চারণ: বিসমিকা, আল্লা-হুম্মা, আমৃতু ওয়া আ'হইয়া-।

অর্থ: "আপনারই নামে, হে আল্লাহ, আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।"

হুযাইফা বলেন, রাসূলুল্লাহ ঘুমানোর ইচ্ছা করলে এ যিক্সটি বলতেন।


প্রয়োজনীয় মাসনূন দুআ যিকর নং ২৬ (খাবারের পূর্বের যিকর)

‎‫بِسْمِ اللهِ، بِسْمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ

বিসমিল্লা-হ), অর্থাৎ “আল্লাহর নামে”। শুরুতে আল্লাহর নাম বলতে ভুলে গেলে বলবে: (বিসমিল্লা-হি ফী আওয়ালিহী ওয়া আ-খিরিহী), অর্থাৎ “আল্লাহর নামে এর প্রথমে এবং -এর শেষে"। হাদীসটি সহীহ। ২৭

২৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৬৯৭।

২৬. সহীহ বুখারি, হাদীস-৬৩১৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৪১৭।

যিকর নং ২৭ (খাবারের পরের যিকর)

‎‫الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنَي‬‎

‎‫وَلَا قُوَّةٍ।‬‎

উচ্চারণ: আল হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত'আমানী হা-যা ওয়া রাযাক্বানীহি মিন গায়রি 'হাওলিম মিন্নী ওয়ালা- কুওয়াহ।

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এ খাদ্য খাইয়েছেন এবং আমাকে তা প্রদান করেছেন আমার কোনো ■ অবলম্বন ও ক্ষমতা ছাড়াই।

রাসূলুল্লাহ বলেন, "যদি কেউ খাদ্য গ্রহণ করে এ কথাগুলো বলে -তাহলে তার পূর্বাপর গোনাহ ক্ষমা করা হবে।" হাদীসটি হাসান। ২৮


যিকর নং ২৮ (ঋণমুক্তির দুআ)

‎‫اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ

‎‫عَمَّنْ سِوَاكَ.‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা 'আন হারা-মিকা ওয়া আ'গনিনী বিফাদলিকা 'আম্মান সিওয়াকা।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি আপনার হালাল প্রদান করে আমাকে হারাম থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার দয়া ও বরকত প্রদান করে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সকলের অনুগ্রহ থেকে বিমুক্ত করে দিন।"

আলী এর কাছে একব্যক্তি ঋণমুক্তির জন্য সাহায্য চাইলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে কিছুবাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন, আমি তোমাকে তা শিখিয়ে দিচ্ছি। তোমার পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেবেন এবং তোমাকে ঋণমুক্ত করবেন। তুমি বলবে... (উপরের দুআ)। হাদীসটি সহীহ।"

২৭. সুনান তিরমিযি, হাদীস-১৮৫৮; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২৫৭৩৩।

২৮. সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৪৫৮; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৪০২৩।


যিকর ২৯ (কঠিন কর্মকে সহজ করার দুআ)

‎‫اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا.‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, লা- সাহলা ইল্লা- মা- জা'আলতাহ্ সাহলান। ওয়া আনতা তাজ'আলুল হাযনা ইযা- শিতা সাহলান।

অর্থ: “হে আল্লাহ আপনি যা সহজ করেন তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আর আপনি ইচ্ছা করলে সুকঠিনকে সহজ করেন।" হাদীসটি সহীহ।৩০

২৯. সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৫৬৩। মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-১৯৭৩।


যিকর নংঃ ৩০ (কারো ক্ষতির আশঙ্কা করলে আত্মরক্ষার দুআ)

‎‫اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, ইন্না- নাজ'আলুকা ফী নু'হূরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরূরিহিম।


অর্থ: “হে আল্লাহ, আমরা আপনাকে তাদের কণ্ঠদেশে রাখছি এবং আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি তাদের অকল্যাণ থেকে।" হাদীসটি সহীহ। ৩১


যিকর নং ৩১ (বিপদ-কষ্টে নিপতিত ব্যক্তির দুআ)

‎‫إِنَّا لِلَّهِ وَأَنَا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ، اَللَّهُمَّ أَجُرْنِي فِي مُصِيبَي وَأَخْلِفُ لِي خَيْرًا مِنْهَا.‬‎


উচ্চারণ: ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রা-জিউন। আল্লা-হুম্মা জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী বাইরাম মিনহা-।

অর্থ: "নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব। হে আল্লাহ, আপনি আমাকে এ বিপদ মুসিবতের পুরস্কার প্রদান করুন এবং আমাকে এর পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করুন।"

উম্মুল মু'মিনীন উম্মু সালামাহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছি, যদি কোনো মুসলিম বিপদগ্রস্ত হয়ে এ কথাগুলো বলে তাহলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই উক্ত ক্ষতির পরিবর্তে উত্তম বিষয় দান করে ক্ষতিপূরণ করে দেবেন। ৩২

৩০. সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-৯৭৪, মাকদিসি, আহাদীস মুখতারাহ, হাদীস-১৬৮৫।

৩১. সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৫৩৭। মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-২৬২৯।

যিকর নং ৩২ (বিপদগ্রস্তকে দেখলে বলার দুআ)

‎‫الْحَمْدُ للهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيْلًا.‬‎

উচ্চারণ: আল-'হামদু লিল্লা-হিল্লাযী 'আ-ফা-নী মিম্মাব তালা-কা বিহী ওয়া ফাদ্দ্বালানী 'আলা- কাসীরিম মিম্মান 'খালাক্কা তাফদ্বীলান।

অর্থ: "প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাকে যে বিপদটি দিয়ে পরীক্ষা করেছেন সে বিপদ থেকে আমাকে নিরাপদ উ রেখেছেন এবং আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির থেকে অধিক মর্যাদা দিয়েছেন।"


উমার ইবনুল খাত্তাব এবং আবু হুরাইরা থেকে পৃথক সনদে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেন, যদি কেউ কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখে উপরের কথাগুলো বলে তবে সে উক্ত বিপদ বা অসুবিধা থেকে (আজীবনের জন্য) নিরাপত্তা লাভ করবে, (বিপদ যেমনই হোক না কেন)। ইমাম হুসাইন এর পৌত্র মুহাম্মাদ মাল-বাকির বলেন, বিপদ বা অসুবিধায় নিপতিত মানুষ দেখলে তাকে না শুনিয়ে নিজের মনে একথা বলতে হবে। হাদীসটি সহীহ।

৩২. সহীহ মুসলিম, হাদীস-৯১৮; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২৬৬৩৫।

যিকর নং ৩৩ (ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের যিকর)

‎‫أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.‬‎

উচ্চারণ: আ‘উযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম।

অর্থ: "আমি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি বিতাড়িত শয়তান থেকে।" 

সুলায়মান ইবন সুরাদ বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, এ কথা গুলো বললে ক্রোধান্বিত ব্যক্তির ক্রোধ দূরীভূত হবে।


যিকর নং ৩৪

(উপকারীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশক দুআ)

‎‫جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا.‬‎


উচ্চারণ: জাযা-কাল্লা-হু খাইরান।

অর্থ: "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।"

রাসূলুল্লাহ বলেছেন, কেউ কারো উপকার করলে সে যদি উপকারীকে একথা বলে কৃতজ্ঞতা জানায় তাহলে তা সর্বোত্তম প্রশংসা করা হবে । হাদীসটি হাসান ।

৩৩. সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৪৩১, ৩৪৩২।

৩৪. সহীহ বুখারি, হাদীস-৩২৮২, ৬১১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৬১০।

যিকর নং ৩৫ (বাজার বা কর্মস্থলে প্রবেশের দুআ

‎‫اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ أَهْلِهَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ أَهْلِهَا.‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন্ 'খাইরিহা- ওয়া 'খাইরি আহলিহা ওয়া আ'উযু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি আহলিহা।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এ স্থানের কল্যাণ ও এখানে অবস্থানরতদের কল্যাণ এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি এর অকল্যাণ এবং এখানে অবস্থানরতদের অকল্যাণ থেকে।"

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বাজারের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে বাজারের দিকে মুখ করে এ দুআটি পড়ে বাজারে প্রবেশ করতেন। ৩৬


যিকর নং ৩৬ (মাজলিসের আখিরি দুআ)

‎‫اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ

‎‫مَعَاصِيْكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغْنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْبَنِين - مَا تُهَوَنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيبَتَعَتَيْتِيْمَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلْ انَا عَلَى مَلَ وَنَظَرِنَا عَلَى مَنَظْمَنْ عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلَا تَجْعَلْ تنَا فِي دِيْنِنَا وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ لَاْنَا وَلَا مَبْلَغَ لَاْنَا عَلَيْنَا مَبْلَغَ لَاْسَي يَرْحَمُنَا।‬‎

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাকসিম লানা- মিন খাশয়াতিকা মা-ইয়া‘হূলু বাইনানা- ওয়া বাইনা মা‘আ-স্বীকা ওয়া মিন ত্বা-'আতিকা মা- তুবাল্লিগুনা- বিহী জান্নাতাকা, ওয়া মিনাল ইয়াক্বীনি মা- তুহাওয়িনু বিহী 'আলাইনা মুম্বীবা- তিদ দুনইয়া-। ওয়া মাততিঅ্না বিআসমা-'য়িনা- ওয়া আবস্বা-রিনা- ওয়া কুওয়াতিনা- মা- আ'হইয়াইতানা- ওয়াজ'আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না-, ওয়াজ'আল সা'অরানা- 'আলা- মান্ যোয়ালামানা-, ওয়ানস্বুরনা- ‘আলা-মান্ 'আ-দা-না-, ওয়ালা- তাজ'আল মুস্বীবাতানা- ফী দীনিনা- ওয়ালা- তাজ'আলিদ দুনইয়া- আকবারা হাম্মিনা-ওয়ালা- মাবল‘গা ইলমিনা- ওয়ালা- তুসাল্লিত্ব 'আলাইনা- মান্ লা- ইয়ার‘হামুনা-।

অর্থ: “হে আল্লাহ , আপনি আমাদেরকে আপনার ভয় করার তাওফীক দিন যে ভয় আমাদেরকে আপনার অবাধ্য হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এবং আপনি আমাদেরকে আপনার আনুগত্য করার তাওফীক প্রদান করুন, যে আনুগত্যের দ্বারা আপনি আমাদেরকে আপনার জান্নাতে পৌঁছাবেন। এবং আপনি আমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাস প্রদান করুন, যে বিশ্বাস আমাদের জন্য দুনিয়ার বিপদ-আপদকে সহজ করে দেবে। আপনি আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও দেহের শক্তিকে আমাদের জন্য মরণ পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ রাখুন এবং এগুলোকে বহাল রেখে আমাদের মৃত্যু দান করুন। যারা আমাদের জুলুম করেছে তাদের উপর  আমাদের প্রতিশোধ অর্পণ করুন এবং যারা আমাদের শত্রুতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের দীনকে বিপদযুক্ত করবেন না, দুনিয়াকে আমাদের চিন্তাভাবনার মূলবিষয় বানাবেন না এবং আমাদের জ্ঞানকে দুনিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। আমাদের প্রতি মমতাবিহীন কাউকে আমাদের উপর ক্ষমতাবান করবেন না।"

রাসূলুল্লাহ সাধারণত মাজলিস ত্যাগ করার আগে এই কথাগুলো বলে তাঁর সাথিদের জন্য দুআ করতেন। হাদীসটি হাসান।

৩৫. সুনান তিরমিযি, হাদীস-২০৩৫; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-৩৪১৩। 

৩৬. সায়ীদ ইবন মানসূর, আস-সুনান, হাদীস-১৪১; বাইহাকি, আস-সুনানুল

কুবরা, হাদীস-১৯৯০২। হাদীসটি সহীহ।

৩৭. সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৫০২: বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, হাদীস-১৩৭৪।


সমাপ্ত











Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url