পরাধীনতা কে মানুষ নিজের পায়ে দাড়ানো মনে করে


প্রথমে যে কথাটা বলে নিতে চাই  পৃথিবীতে কেই স্বাধীন নয় আবার কেই  পরাধীন ও নয় । তবে প্রকৃতিগতভাবেই  মানুষ নির্ভরশীল  আজ শুধু কথা বলবো মানুষের স্বাধীনতা ও পরাধীনতা নিয়ে ।

স্বাধীনতা শব্দটি সাধারণভাবে বোঝায় মুক্তি বা কোনো ধরনের বন্ধন, শৃঙ্খল, বা বাধার থেকে মুক্ত থাকার অবস্থাকে।  যা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে। মানুষের স্বাধীনতার মূল ব্যাখ্যা করতে গেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে:

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা

এটি এমন এক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে পারে, তিনি তার নিজস্ব চিন্তা ও মত প্রকাশ করতে পারেন। এখানে অন্য কারও দ্বারা জোর-জবরদস্তি বা নিয়ন্ত্রণের বালাই নেই।

সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা

সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে বোঝায় একটি জাতি বা জনগোষ্ঠীর উপর কোনো বাহ্যিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ না থাকা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের নিজস্ব সরকার গঠন করতে পারে এবং তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতা মানে হলো, ব্যক্তি বা জাতি নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পদ ও সিদ্ধান্তের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারা। এটি আত্মনির্ভরশীলতার দিকেও ইঙ্গিত করে।

মানসিক স্বাধীনতা

মানসিক স্বাধীনতা হলো এমন এক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি প্রভাব, ভয় বা সংস্কার থেকে মুক্ত থেকে চিন্তা করতে এবং নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারেন।

স্বাধীনতার দর্শন

স্বাধীনতা হলো এমন এক অবস্থা যা মানুষের জন্মগত অধিকার। এটি শুধু শারীরিক নয়, বরং মানসিক, সামাজিক এবং নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। 

সব কিছু মিলে যা দাঁড়ায় স্বাধীনতা মানে শুধু শৃঙ্খল থেকে মুক্তি নয়, বরং নিজেকে জানার, নিজের সত্ত্বাকে বিকশিত করার সুযোগ।


দ্বিতীয় অংশে আপনাদের সাথে যে বিষয় নিয়ে কথা বলবো তাহলো পরাধীনতা নিয়ে ।

"পরাধীনতা" শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত: "পর" এবং "আধীনতা"। 

"পর" অর্থ অন্য বা পরের অধীন।  

"আধীনতা" অর্থ কোন কিছুর অধীন থাকা, স্বাধীনতার বিপরীত অবস্থা।

মূল ব্যাখ্যা:

পরাধীনতা বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে কেউ নিজের ইচ্ছা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে অন্যের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের অধীন হয়ে যায়। এটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক যেকোনো প্রেক্ষাপটে হতে পারে। 

উদাহরণস্বরূপ:

রাজনৈতিক পরাধীনতা: একটি জাতি যদি অন্য জাতির শাসনের অধীনে থাকে এবং নিজের ইচ্ছামতো শাসন করার স্বাধীনতা না থাকে। যেমন, ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল, যা ছিল রাজনৈতিক পরাধীনতা।  

ব্যক্তিগত পরাধীনতা: ব্যক্তিগত জীবনে কেউ যদি অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকেন এবং নিজের মতামত বা সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন।


পরাধীনতা অনেক সময় এমনভাবে আমাদের জীবনকে আচ্ছন্ন করে যে পরাধীনতার এই অনুভূতি আমরা ভুলে যাই । মূলত তখন নিজের অধিকার, সম্ভাবনা বা স্বাধীনতার পরিপূর্ণতা মানুষ বুঝতে পারে না। এটি হতে পারে সমাজের চাপ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বা নিজের আত্মবিশ্বাসের অভাবের কারণে।

প্রতিটা মানুষ তার দায়িত্বে বা কর্মক্ষেত্র পরাধীনতা পালন করতে বাধ্য:

সরকারী আমলা: একজন সরকারী কর্মচারী তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ জবাব দিতে বাধ্য ।

দিন মজুর: একজন দিন মজুর তার মহাজন এর কাছে কাজের জবাব দিতে বাধ্য ।

এই ভাবেই মানুষ এর দায়িত্ব বন্টণ হয় এবং ঘটে যায় চেইন রি-অ্যাকশন ।

সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্যে অবক্ষয় ।

আমাদের সামজিক ভাবে বাঁচতে হয় এ জন্য একজন আরেক জনের প্রতিনিধিত্ব করেন অনেক ক্ষেত্রে সেটা মানতে আমাদের কষ্ট হয় যেমন একজন গৃহিণীর কাজ কি থাকবে সংসার এর বিভিন্ন দায়িত্ব সন্তান লালন-পালন কিন্তু তার কাছে মনে হয় এটা তার জন্য অপমান যদি তার চাকুরী থাকতো হয়তো তিনি মর্যাদাবান হতেন তাই তিনি মনে করেন

নিজের স্বামী কে ভাত বেড়ে দেওয়ার নাম গোলামী, আর পর পুরুষকে খাবার সার্ভ করা নিজের পায়ে দাঁড়ানো!
যা যতেষ্ট সামাজিক অবক্ষয় । 
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url